বুধবার ২২ জুলাই ২০২৬ - ১১:৫২
তৌরাত ও মৃতের জন্য ক্রন্দন নিষিদ্ধ হওয়ার বিধান ও হুকুম

হযরত উমর (রা) মদীনায় মসজিদে নববীতে ইসলাম ধর্মে নব্য দীক্ষিত ইয়াহূদী পণ্ডিত কা'বুল আহবারকে ইয়াহূদীদের প্রাচীন কিতাবাদি থেকে (কিসসা কাহিনী অর্থাৎ ইসরাঈলীয়াত) বর্ণনা করার অনুমতি দিয়েছিলেন।

হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, পর্ব ২ (১)

অত্যন্ত তাজ্জবের বিষয় যে মহানবীর (সা) সুন্নাহ ও হাদীস চর্চা, বর্ণনা, সংকলন ও লিপিবদ্ধ করার ব্যাপারে ঘোরতর আপত্তি, অনীহা ও অনাগ্রহ সত্ত্বেও হযরত উমর (রা) মদীনায় মসজিদে নববীতে ইসলাম ধর্মে নব্য দীক্ষিত ইয়াহূদী পণ্ডিত কা'বুল আহবারকে ইয়াহূদীদের প্রাচীন কিতাবাদি থেকে (কিসসা কাহিনী অর্থাৎ ইসরাঈলীয়াত) বর্ণনা করার অনুমতি দিয়েছিলেন।

উল্লেখ্য যে কাবুল আহবার হযরত উমরের খিলাফত কালে ইয়ামান থেকে মদীনায় আগমন করে বসবাস করতে থাকেন এবং তিনি খলীফার বিশ্বাসভাজন ছিলেন। কুদস বিজয়ের সময় বাইতুল মুকাদ্দাস সফরকালে তিনি খলীফা উমরের (রা) সাথে ছিলেন।

এরপর হযরত উসমানের (রা) শাসনামলে শামে চলে যান এবং তার বিশাল জ্ঞানের জন্য মুয়াবিয়া তাকে উপদেষ্টাদের অন্তর্ভুক্ত করেন।মুয়াবিয়া শাম দেশে ইয়াহূদীদের কিসসা কাহিনী ও উপাখ্যান বর্ণনা করার আদেশ দেন এবং এ ভাবে তিনি ইয়াহূদী ও ইসলামী ঐতিহ্য ও উপাখ্যান সমূহের প্রথম বর্ণনাকারী হিসেবে পরিগণিত হন।

কাব, ইবনে মুনাব্বেহ এবং আরো অন্যান্য ইয়াহূদী যারা ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত হয়েছিল তাদের মাধ্যমে তালমূদের কিসসা কাহিনী (ইসরাইলীয়াত) হাদীস শাস্ত্রে ঢুকে যায় এবং পরবর্তীতে সেগুলো ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক হাদীস ও বর্ণনা সমূহের অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়। (দ্রঃ আদ্বওয়াউন আলাস সুন্নাতিল মুহাম্মাদীয়াহ,পৃ:১৫৩)

ঠিক যেমন ভাবে তামীম দারী নাসরানী (খ্রিষ্টান) ঐতিহ্য ও কিসসা কাহিনী সংক্রান্ত হাদীস ও বর্ণনার প্রসারের ক্ষেত্রে অবদান রেখেছেন ঠিক তেমনি শাম দেশ ও ইসলামী অঞ্চল ও ভূখণ্ড সমূহে কা'বুল আহবার কর্তৃক ইয়াহূদী ঐতিহ্য ও কিসসা কাহিনী সংক্রান্ত বর্ণনা দিয়ে ভরে যাওয়ার পর তিনি (কা'ব) ৩২,৩৩ অথবা ৩৮ হিজরীতে হুমসে মৃত্যু বরণ করেন। (দ্রঃ আদ্বওয়াউন আলাস সুন্নাতিল মুহাম্মাদীয়াহ,পৃ:১৪৮)

ইবনে কাসীর বলেছেন: এ সব কথাবার্তা ও বক্তব্যের সব কিছুই কা'বুল আহবারের কাছ থেকে গৃহীত।কারণ তিনি যখন হযরত উমরের (রা) শাসনামলে ইসলাম ধর্ম কবুল করেন তখন তিনি তার কাছে বিদ্যমান প্রাচীন গ্রন্থাদি থেকে হযরত উমরের (রা) কাছে (কিসসা কাহিনী ও উপাখ্যান) বর্ণনা করতে থাকেন।আর সম্ভবতঃ হযরত উমর (রা) তার কথা শুনেন।অত:পর কাবের কাছ থেকে তাঁর কাছে বিদ্যমান মনগড়া বানোয়াট কিসসা কাহিনী ও উপাখ্যান শোনার অনুমতি জনগণকে দেওয়া হয়। (দ্রঃ তাফসীরে ইবনে কাসীর,খ:৭,পৃ:২৮)

و هذه الأقوال و الله الأعلم کلها مأخوذة من کعب الاحبار فإنه اما أسلم في الدولة العمریة جعل یحدث عمر رضي الله عنه عن کتبه قدیماً فربما استمع له عمر رضي الله عنه فترخص الناس في استماع ما عنده عنه غثها و سمینها.

আল্লামা যাহাবী বলেন: "তিনি (কা'বুল আহবার) হযরত উমরের (রা) শাসনামলে ইয়ামান থেকে (মদীনায়) আগমন করেন।অত:পর তাঁর থেকে সাহাবা ও অন্যান্যরা বর্ণনা গ্রহণ করেছেন এবং তিনিও মুরসাল আকারে একদল তাবেয়ী থেকে বর্ণনা করেছেন। (আল্লামা যাহাবী প্রণীত তাযকিরাতুল হুফফায,খ স:১,পৃ:৫২, নং ৩৩,২য় সংস্করণ)

إنه قدم من الیمن في دولة أمیر المومنین عمر فأخذ عنه الصحابة و غیرهم و روی عن جماعة من التابعین مرسلاً.

আবূ না'ঈম্ ইসফাহানী লিখেছেন: কা'বুল আহবার মুসলিম জনতার মাঝে কথা বললেন এবং দ্বিতীয় খলীফা এ সব ব্যক্তির পাশে এসে বসে তাঁকে অনুরোধ করলেন যেন তিনি তাঁকে (খলীফা) নসীহত করেন। (দ্রঃ হুলিয়াতুল আওলিয়া ওয়া তাবাক্বাতুল আসফিয়া, খ:৫,পৃ:৩৭১, প্রকাশকাল:১৩৯৪ হিজরী)।

তিনি আরো লিখেছেন: একদিন দ্বিতীয় খলীফা তাঁকে ডেকে এনে বললেন: হে কা'ব! আপনি আমাকে তৌরাতে কেমন গুণ ও বৈশিষ্ট্যের ওপর দেখতে পেয়েছেন? "তখন তিনি (কা'ব) বললেন: "খলীফা হচ্ছেন একটি লৌহ নির্মিত (সুদৃঢ় মজবূত অর্থাৎ দুর্ভেদ্য) দুর্গের মতো যিনি মহান আল্লাহর পথে কোনো তিরস্কার কারীর তিরস্কারের মোটেও পরোয়া করেন না।" (দ্রঃ হুলিয়াতুল আওলিয়া ওয়া তাবাক্বাতুল আসফিয়া,খ:৬,পৃ:২৫)

এক বর্ণনায় এসেছে যে দ্বিতীয় খলীফা কিয়ামত সম্পর্কে তাকে কিছু বলে শোনানোর জন্য কা'বকে অনুরোধ করলেন। (দ্রঃ ইবনুল মুবারক প্রণীত আয-যুহদ ওয়ার রাকায়েক,খ:২,পৃ:১১৭)

ইতিমধ্যে প্রথম পর্বে উল্লেখ করা হয়েছে যে মহানবী (সা) হযরত উমর (রা) সহ সকল মুসলমানকে ইয়াহূদীদের এবং বিধর্মীদের কিতাবাদি পাঠ ও তাদের কিসসা কাহিনী অর্থাৎ ইসরাঈলীয়াত শুনতে বারণ ও নিষেধ করেছিলেন। কিন্তু অত্যন্ত দু:খজনক হলেও সত্য যে তাঁর (সা) ওফাতের ঠিক পরপরই তাঁর সুন্নাহ ও হাদীস বর্ণনা, পঠন, পাঠান, চর্চা, সংরক্ষণ, লিখন ও সংকলনে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয় এবং ইয়াহূদীদের ইসরাইলীয়াত এবং নাসারাদের (খ্রিষ্টানদের) ঐতিহ্য ও কিসসা কাহিনী বর্ণনা করা ও শোনার অনুমতি দেওয়া হয়!!!!!

চলবে….

ইসলামী চিন্তাবিদ ও গবেষক মুহাম্মদ মুনীর হুসাইন খান

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha